গাংনীর হাড়াভাঙ্গায় পুত্রবধূকে মারধরের অভিযোগ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে

 meherpurerkantho
প্রকাশিত :  10:15 PM. 8 March 2023

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামে এক পুত্রবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর স্কুল শিক্ষক সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে মুক্তা খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করার পর গোপনে বিয়ে করে একই ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামের হাড়াভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ওরফে শিমুলের ছেলে আবির হাসান।

নির্যাতনের স্বীকার পুত্রবধূর পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় আবির ও মুক্তার। দীর্ঘদিন প্রেমের পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখে মটমুড়া ইউনিয়নের একটি কাজী অফিসে গোপনে বিয়ে করে দুজন। দুজনের মধ্যে কথা ছিলো বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার। পরে বিয়ের বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে পুত্রবধূ হিসেবে মুক্তা খাতুনকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় আবিরের পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের (৩রা মার্চ) শুক্রবার সকালে আবিরের বাড়িতে এসে হাজির হয় মুক্তা খাতুন। সেসময় কৌশলে আবিরকে বাড়ির বাইরে দূরে সরিয়ে দিয়ে পুত্রবধূ মুক্তা খাতুনকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তার শ্বশুর মাহমুদুল হাসান ওরফে শিমুল সহ কয়েকজন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী মুক্তা খাতুনকে উদ্ধার করে তার বাবার বাড়িতে নিরাপদে পৌঁছে দেয়।

শ্বশুরের নির্যাতনের স্বীকার পুত্রবধূ মুক্তা খাতুন বলেন, আবিরের সাথে আমার অনেক দিন প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয়। আবিরের অনুরোধে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখি দুজনে। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে আবিরকে ওর পরিবারের লোকজন মারধর করে। মারধরের আঘাতের চিহ্নের ছবি আমাকে আবির পাঠালে আমি ঠিক থাকতে না পেরে আমার স্বামীকে দেখতে ওদের বাড়িতে যায়। আমার স্বামীকে ওরা লুকিয়ে রাখে এবং আমাকে আমার শ্বশুর বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে জনসম্মুখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় আমার শ্বশুর।

নির্যাতনের স্বীকার মুক্তা খাতুন আরও বলেন, গালিগালাজের এক পর্যায়ে আমার শ্বশুর মাহমুদুল হাসান ওরফে শিমুল, হাড়াভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমান ওরফে মিসাদ এবং আম্বিয়া খাতুন আমাকে মারধর শুরু করে। মিসাদ নামের উনি আমার গালে চড় মারলে আমি অজ্ঞান হয়ে যায় এবং আমার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরানো হয়। পরে আমাকে আবিরের বাড়ির ওখান থেকে টেনেহিঁচড়ে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে আসে আমার শ্বশুর শিমুল। এলোপাতাড়ি মারধরের পরে আমি ভয় পেয়ে যায় এবং ওখানকার কয়েকজনের সহোযোগিতায় বাড়ি ফিরে আসি। আমি এখন আমার স্বামীকে ফিরে চায় এবং আমার উপর নির্যাতনের বিচার চায়।

মুক্তা খাতুনের প্রবাসী বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, দুজনেই ছোট মানুষ ভুল করেছে। আমার মেয়েকে মারধর না করে এবিষয়ে তারা আপোষে মিমাংসা করতে পারতো। মারধর করে এখন টাকা পয়সার লোভ দেখানোর চেষ্টা করছে মিমাংসার জন্য। আমি আমার মেয়েকে মারধরের বিচার চায়। ঐ ছেলের কারণে ইতোপূর্বে আমার মেয়ের ঘর ভেঙেছে।

নির্যাতনের স্বীকার মুক্তার মা জোছনা খাতুন জানান, আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে ঐ ছেলে। ভালো জায়গায় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। আবির আমার মেয়েকে প্রেমের জালে জড়িয়ে সেখানে সংসার করতে দেয়নি। পরে গোপনে বিয়ে করে তারা। এখন আমার মেয়েকে ওর বাপেরা মারধর করে অসুস্থ করে দিয়েছে। আমার মেয়ে আবিরের জন্য পাগল ওর সাথেই সংসার করবে বলে কান্নাকাটি করছে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান ওরফে শিমুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মারধরের দায়ে অভিযুক্ত আরেক শিক্ষক মাসুদুর রহমান ওরফে মিসাদ বলেন, ওসব বাজে কথা। আমি কিংবা আম্বিয়া মেডাম মারধর করিনি। এমনিতেই টানাহেঁচড়া হয়েছে ; শিমুল টানতে টানতে নিয়ে গেছে। তবে আমি পরে যতদুর শুনেছি তালাক দেওয়া হয়েছে সম্ভবত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলিউল আজিম শাহীন বলেন, গ্রাম আদালতে বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু ছেলেটি (আবির) অনুপস্থিত থাকায় চেয়ারম্যান পরবর্তীতে আবার সময় দিয়েছে মিমাংসার জন্য।

কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলম হুসাইন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত রয়েছি; অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। এ ঘটনায় আগামী বৃহস্পতিবার মিমাংসার জন্য বসার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য: আবিরের বাবা মাহমুদুল হাসান ওরফে শিমুল হাড়াভাঙ্গা গ্রামের মাদ্রাসা পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক নিয়ামতুল্লাহর বড় ছেলে। আবিরের মেজ চাচা হাড়াভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুল হাসান ওরফে পলাশের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের পর জোরপূর্বক ৩মাসের বাচ্চা গর্ভপাত করার চেষ্টার ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর পলাশ জনতার হাতে পিটুনি খেয়ে ৫লক্ষ টাকা দেনমোহরে ২য় বিয়ে করেছিলেন গাংনী পৌরসভায়। পলাশের নারীঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনার পর তার ভাতিজা আবিরের একই ঘটনায় এলাকা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

আপনার মতামত লিখুন :

এই বিভাগের সর্বশেষ