১১ দিনের মাথায় মেহেরপুরের গাংনীতে আবারও ৪ টা ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

meherpurerkanthomeherpurerkantho
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:53 PM, 12 November 2022

১১ দিনের মাথায় মেহেরপুরের গাংনীতে আবারো  ৪ টা ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।এতে চাষিরা আবাদ নিয়ে পড়েছে দুশ্চিন্তায় আর বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প মালিকদের উঠেছে মাথায় হাত।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার দেবীপুর-তেরাইল মাঠে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের মালিক জাকির হোসেন বলেন,মাঠে আমনের আবাদ চলছে।গত ১১ দিন আগেও ৩ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।গতরাতে আমার সহ আরও তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে।এই মুহূর্তে আবারও চুরির ঘটনায় আমন ধান নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।আর এ সময় অনেকের ধানে পানি দিতে হবে।পানি না দিলে ধানের চিটা পড়ে যাবে।এতে কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন এবং ফলনেও শঙ্কা দেখা দেবে।ট্রান্সফর্মারের দামও অনেক বেশি।বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।যদি দ্রুত এই ট্রান্সফর্মারের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে অনেক চাষি ক্ষতির মধ্যে পড়বে।

বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের মালিক উসমান আলী বলেন ,গতকাল রাত ১টা পর্যন্ত আমরা পাহারা দিয়েছি তারপর বাড়ি চলে যাই।সকালে এসে দেখি ট্রান্সফার চুরি হয়ে গেছে।আমার স্কিমে অনেকের আমন ধান সহ বিভিন্ন আবাদ রয়েছে।এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে যদি দ্রুত ট্রান্সফর্মার ঠিক না করা যায়।গতকাল গভীর রাতে এ ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হয়।এর মধ্যে যে তামাগুলো থাকে সেগুলো নিয়ে যায়। বাকি সব কিছু ফেলে যায়।

বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের মালিক নুরুল হক বলেন, ৪টি সেচ পাম্পের আওতায় প্রায় ৪’শ বিঘা জমির আবাদ রয়েছে। যদি মেশিনের মাধ্যমে আবাদ করতে হয় তাহলে তেলের দাম অনেক বেশি, খরচ অনেক বেড়ে যাবে। তাতে জীবন জীবিকা নির্বাহ করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। প্রশাসনকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি করছি।

বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের মালিক লিটন মাহমুদ বলেন,গতকাল রাত একটার পরে আমি ট্রান্সফরমার পাহারা দিয়ে বাড়ি গিয়েছি।সকালে এসে দেখি চারটি ট্রান্সফারটি চুরি হয়েছে।আমার ট্রান্সফরমারটি নিয়েও আমি দুশ্চিন্তায় রয়েছি।প্রতিরাতে ট্রান্সফরমার পাহারা দেওয়া খুব কষ্টের। রাতে ঘুম হয় না।রাতে আমরা চলে যাওয়ার পরপরই ট্রান্সফরমার গুলো চুরি হয়েছে।

আমন চাষি হাসেম উদ্দিন বলেন,আমার ৪ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে।এখনো ধানের সেচ দিতে হয়।সেচ দিতে না পারলে ধানের ক্ষতি হবে।এখনো আমার ধানে ৬-৭ টি সেচ দিতে হবে।ধানের সেচ দিতে না পারলে ধান চিটা হয়ে যাবে।আর এতে ধানের ফলন কমে যাবে।

ধান চাষি নবিছউদ্দিন বলেন,গতকাল রাতে আবারও চোর চক্র ট্রান্সফর্মার গুলো চুরি করে নিয়ে যায়।এর মধ্যে যে মূল্যবান তামা ছিল সেগুলো নিয়ে গেছে আর ঠোসগুলো ফেলে যায়।যেভাবে চুরি হতে শুরু করেছে তাতে আবাদ নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ভুগছি।

আমন চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,১১ দিন আগেও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।আবারও গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চারটি ট্রান্সফরমার চুরি হলো। এভাবে চুরি হতে থাকলে আমরা আবাদ নিয়ে বিপদে পড়ে যাব।ট্রান্সফরমার চুরি রোধে রডের খাঁচা ও বড় বড় তালা মেরেও রাখছি তাও চুরি রোধ করা যাচ্ছে না।

বামন্দী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ইসরাফিল হোসেন জানান, আমরা প্রতিরাতে নিয়মিত টহল অব্যাহত রেখেছি। গভীর মাঠে এমন ঘটনা ঘটবে এটা ধারণা করতে পারিনি। বিদ্যুৎ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তিরা এর সাথে জড়িত আছে বলে আমার মনে হয়।জড়িত দের ধরতে বামন্দী পুলিশের পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করছি।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, ট্রান্সফরমার চুরি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দুই দিনে চুরি যাওয়া ৭ টি ট্রান্সফরমার এর অধিনে প্রায় ৭০০ বিঘার অধিক কৃষি আবাদ আছে। যত দ্রুত সম্ভব ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন এর দাবি জানাচ্ছি।

বামন্দী সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার(ও এন্ড এম) মোঃ হানিফ রেজা জানান,ট্রান্সফর্মার চুরির বিষয়টি খুব দুঃখজনক।আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সমাধান করব। চাষীদের যাতে কৃষি খাতে কোন সমস্যা না হয়।তাই বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।১১ দিনের ব্যবধানে এই মাঠে সাতটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।এই চুরির পেছনে একটা চক্র জড়িত।যারা পল্লী বিদ্যুৎ এর কাজ করে, ঠিকাদার থেকে শুরু করে ডিস লাইনের যারা কাজ করে এদের একটা চক্র থাকতে পারে।চোর চক্র ট্রান্সফরমারের কপার কয়েলের তার টুকু নেয়। চুরি হলে একদিকে যেমন কৃষকের ক্ষতি তেমনি পল্লী বিদ্যুতেরও ক্ষতি। ট্রান্সফরমার একবার চুরি হলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ৫০% ভর্তুকি দিয়ে প্রতিস্থাপন করে। এই বিষয়ে সকলের সহযোগিতা দরকার। আমরা এই বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেছি। এছাড়াও এলাকায় মাইকিং এবং মোটিভেশন মিটিং করছি।

উল্লেখ্য; গত ৩০ অক্টোবর রাতে দেবীপুর ইসাহাকের ডিপের মাঠ থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যায়।এতে চরম বিপাকে পড়ে চাষিরা।

আপনার মতামত লিখুন :